'কুচি কুচি করার যন্ত্রটা ফেলে দিন, আসুন ঐক্যবদ্ধ হই': সংসদে ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের এমপিদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "একটা টেনডেনসি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি, প্রায় সকল বক্তা কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন; আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।"

বর্তমান সংসদকে একটি ঐতিহাসিক অর্জনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। এই পার্লামেন্ট মূলত মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই দেশবাসী আশা করে যে, এই পার্লামেন্ট এমন কোনো আচরণ করবে না যা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। সংসদকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই সংসদের কাজ হলো জাতিকে স্বপ্ন দেখানো, জাতিকে জাগিয়ে তোলা, ঐক্যবদ্ধ করা এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা।

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি একটি চমৎকার রূপক ব্যবহার করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এই সংসদে আজকে আমরা যারা আছি, একসময় আমরা একদিকেই বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, অল্প দু-একজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত—আমি বিভক্ত বলছি না। কারণ, কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না। যানবাহন চালাতে হলে অন্তত দুইটা টায়ার লাগে। এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার যদি অকেজো হয়ে যায়, পুরো যানবাহন অকেজো হয়ে পড়বে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, এই টায়ারে যদি পিন লাগানো বা পেরেক মারা হয়, তবে টায়ার ফুটো হয়ে যাবে এবং অবশিষ্ট টায়ার দিয়েও আর সংসদ চালানো যাবে না।

সংসদের অতীত রীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, বর্তমান সংসদের বেশিরভাগ সদস্যই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। তবে নবীনরা মন্দটা নয়, বরং ভালোটা শিখতে চায়। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এসব হওয়া উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদ কোনো তোষামদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের এবং দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে বেশি করে আঘাত করে ফেলা হয়, যা পরিহার করা উচিত।

বক্তব্যের শেষ অংশে জামায়াত আমির দেশের ইতিহাসের সূর্যসন্তানদের স্মরণ করেন। তিনি সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ দেশের সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তাসনিম হোসেন