২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৪ জন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শুধু জুন মাসেই মারা গেছেন ১৩ জন। সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে—সবচেয়ে বেশি দুজন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এছাড়া বাকিদের মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার, একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এই পাঁচজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ১৮ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০০ জন এবং বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন।

চলতি বছরের ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে) সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই পাঁচ মাসে সব মিলিয়ে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল; যার মধ্যে জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। তবে জুন মাস আসতেই ডেঙ্গুর তীব্রতা হুট করে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রমাণ মেলে চলতি মাসের মাত্র ২৯ দিনেই ১৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লিঙ্গভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষের সংখ্যা বেশি। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১০ জন এবং নারী ৮ জন। অন্যদিকে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৯২৪ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ২৪৪ জন নারী রোগী রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গুর এমন ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেখে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা ও সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তাসনিম হোসেন