বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে 'উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর' সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত এসব নেতিবাচক প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার (৫ জুলাই) সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রায় একই ধরনের তথ্য এবং কেবল শিরোনাম আংশিক পরিবর্তন করে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূল নীতিমালা ও পেশাগত মানদণ্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সংগঠনের বর্তমান গতিশীল কার্যক্রম ও বাস্তব পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ আড়াল করে যুবদল সম্পর্কে এমন একপাক্ষিক ও নেতিবাচক মন্তব্য করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
বিবৃতিতে যুবদলের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক যুবসংগঠন, যা শুরু থেকেই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং হাজার হাজার কর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
কমিটি গঠনের জটিলতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, দলীয় কাঠামোগত বাধ্যবাধকতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ছোট রাখতে হয়েছে। ফলে অনেক যোগ্য নেতাকর্মীকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, যা একটি বাস্তব চিত্র। তবে এই সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন এবং একটি ইতিবাচক সমাধানের অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যেই দেশজুড়ে সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন, সদস্য সংগ্রহ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে চলছে।
সংগঠনটি আরও জোর দিয়ে জানায়, যুবদল কঠোরভাবে সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বেআইনি, অনৈতিক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে দল কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করার কোনো সুযোগ নেই এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অনৈতিকতার প্রমাণ মিললেই নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়, এত ত্যাগের ইতিহাস ও সাংগঠনিক সক্রিয়তা উপেক্ষা করে যুবদলকে কিছু গণমাধ্যমে ’মৃতপ্রায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনো তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন নয়। একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের উচিত মনগড়া মন্তব্যের চেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। যুবদল আশা করে, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশ করবে।