বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে চীনা দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং রাজনৈতিক সহকারী রু কি উপস্থিত ছিলেন। আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পায়। দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি উন্নয়ন, সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ এবং প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় ডা. শফিকুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে চীন সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষের মতে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন সহযোগিতা, পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রসার এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

 

তাসনিম হোসেন