ব্রাজিলের দুটি শীর্ষ অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা একতরফা হস্তক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা।
ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে ভিয়েইরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্রাজিলের ভূখণ্ডে সামরিক শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
গত মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দুই প্রভাবশালী অপরাধী চক্র—রেড কমান্ড (সিভি) ও ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ডকে (পিসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এ সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করে।
চিঠিতে ভিয়েইরা আরও বলেন, এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক, অভিবাসন এবং অপরাধ দমনসংক্রান্ত বিষয়ে ব্রাজিলের সীমানার বাইরে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক।
তালিকাভুক্তির ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সিভি ও পিসিসি ব্রাজিলের সবচেয়ে সহিংস অপরাধী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাদের কার্যক্রম শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রেও বিস্তৃত।
এদিকে ব্রাজিলের ডানপন্থি বিরোধীরা ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে লুলা সরকার অপরাধ দমনে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না।
অন্যদিকে, শুল্ক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগ তদন্ত করছে। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ব্রাজিল সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।