ছাত্রদল-শিবির বাদ, রায়পুরে শহীদ দিবসের আলোচনায় অতিথি আ.লীগ নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে আমন্ত্রণ না দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছারের সভাপতিত্বে ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ৪ নং সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ জালাল কিসমত এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ৮ নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ মিন্টু ফরায়েজী।

​অনুষ্ঠানে একদিকে জুলাই আন্দোলনে বিরোধিতাকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের কদর এবং অন্যদিকে আন্দোলনে রাজপথে থাকা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী জানান, "যে আন্দোলনের সফলতায় আজকের এই শহীদ দিবস, সেই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে প্রশাসন কৌশলে বাদ দিয়েছে। উল্টো স্বৈরাচারের দোসর ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের এনে বসা রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা শুরুতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জোরালো আপত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তখন ইউএনও সাহেব আমাদের বলেন যে, ‘রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার’ কারণে তাদের অনুষ্ঠানে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী ভূমিকার পর আমরা আর পরিস্থিতি ঘোলাটে করিনি। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণহত্যাকারী দলের নেতাদের এমন উপস্থিতি আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।"

​জুলাই আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শহীদ হওয়া ওসমান পাটোয়ারীর বাবা আব্দুর রহমান এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মুঠোফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "শহিদ দিবসের আলোচনা সভায় ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা উপস্থিত ছিলেন, তা আমি জানতামই না। শহীদদের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই কীভাবে তারা এই অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলো করে বসেন? যেখানে আন্দোলনের শরিকদের দেখা নেই, সেখানে কে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন। বিষয়টি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অপমানজনক।"

​অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ মিন্টু ফরায়েজী বলেন, "আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি সত্য, তবে ছাত্র-জনতার ওপর কোনো হামলা, চাঁদাবাজি, লুটপাট বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি জুলাই আন্দোলনের যে নতুন বাস্তবতা, তা মনে-প্রাণে মেনে নিয়েছি এবং এই দিবস উদযাপনে আমার কোনো আপত্তি নেই।"

​অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাদের উপস্থিতি ও বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার সাংবাদিকদের বলেন, "জুলাই শহীদ দিবস একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। ওনাদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) আলাদাভাবে কেউ দাওয়াত দেয়নি বা আসতে বলেনি। ওনারা জনপ্রতিনিধি তথা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী অনুষ্ঠানে এসেছেন।"

​তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় ক্ষোভ কমেনি স্থানীয় ছাত্র-জনতার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জুলাই শহীদ দিবসের মতো সংবেদনশীল অনুষ্ঠানে আন্দোলনের মূল অংশীজনদের বাদ দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণ ও তোষণ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা চলছে।

তাসনিম হোসেন