‘হুমকির মুখে আলোচনা নয়’, ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পর মার্কিন বৈঠক বয়কট করল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে তীব্র সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বয়কট করেছে ইরান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লমেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনা বর্জনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

ইরানি স্পিকার গালিবাফ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রতিনিধি দল এবং ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলার তীব্র হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের পর তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান। গালিবাফ ভ্যান্সকে মনে করিয়ে দেন যে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। ইরান কোনো হুমকি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনা করবে না জানিয়ে পুরো ইরানি প্রতিনিধি দল একযোগে সভাকক্ষ ত্যাগ করে।

পরবর্তীতে মার্কিন পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আরেকটি জরুরি বৈঠকের আকুতি জানালেও তেহরান তা সরাসরি নাকচ করে দেয়। তবে কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরান এক নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করে এবং একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করে।

এর আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে লেবাননে ইরানের অর্থপুষ্ট প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দেন, অন্যথায় ইরানের ওপর আরও মারাত্মক আঘাত হানার হুমকি দেন। এছাড়া ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার এবং ইরানের অস্তিত্ব বিপন্ন করার চরম হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ ১৪ দফার শান্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮ জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। এই চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল লেবানন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। তবে ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর সপ্তাহ পার হতেই সেই শান্তি আলোচনা গভীর সংকটে পড়ল।

তাসনিম হোসেন