এমপি মাসউদকে তুলতে মাঝপথ থেকে ফেরি ফেরানো হলো ঘাটে, যাত্রীদের ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়া-নলচিরা নৌপথে মাঝনদী থেকে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেরিতে ওঠানোর জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে ছেড়ে যায় মহানন্দা নামের ফেরি। তবে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ফেরিটি আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেরির সামুদ্রিক প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম।

তিনি জানান, ফেরি ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পর সংসদ সদস্যের আগমনের খবর আসে। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরিটি ঘুরিয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁর ভাষ্য, সংসদ সদস্য ফেরি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং ব্যবস্থাপকের নির্দেশেই ফেরিটি ফিরে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা সাড়ে তিনটায় ফেরিটি চেয়ারম্যান ঘাট ছেড়ে নলচিরার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ২০ মিনিট পর সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ গাড়িযোগে ঘাটে পৌঁছান। এরপর তাঁকে হাতিয়ায় নেওয়ার জন্য ফেরিটি মেঘনা নদীর মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে আনা হয়।

সংসদ সদস্য তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠার পর দ্বিতীয়বারের মতো নলচিরার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ফেরিটি। সাধারণত চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা পৌঁছাতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনেই তাঁর জরুরি ভিত্তিতে হাতিয়া যাওয়া দরকার ছিল। তাঁর দাবি, ফেরিটি খুব বেশি দূরে যায়নি এবং তিনি ঘাটে পৌঁছানোর অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. জহির উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়েই ফেরি ছেড়ে গিয়েছিল। তবে প্রায় ২০ মিনিট পর সংসদ সদস্যকে বহনের জন্য সেটিকে ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। হাতিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরুর পর এমন ঘটনা এই প্রথম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরে আসায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী বলেন, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফেরি ফিরে যাচ্ছে। পরে ঘাটে এসে জানতে পারেন, একজন জনপ্রতিনিধিকে ওঠানোর জন্যই মাঝপথ থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মতে, একজন ব্যক্তির সুবিধার জন্য শত শত যাত্রীকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাসনিম হোসেন