রাজনৈতিক দলগুলো জয় পেয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষকে তোয়াক্কা করা বন্ধ করে দেয় বলে কড়া মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার গদি মোটা করার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার বড় প্রমাণ দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস।
কুড়িগ্রামে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এক বিশাল পথসভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। বুধবার বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এই পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে গদি ভারী করার পর সাধারণ মানুষের অবদানকে বেমালুম ভুলে যাওয়ার এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "ইলেকশন সম্পন্ন করে ক্ষমতার গদি ঠিকই মোটা হয়ে গেছে, অথচ এখন আর সাধারণ জনগণকে গোনার কোনো প্রয়োজনবোধ করা হচ্ছে না। কিন্তু রাজনীতিবিদের মনে রাখা উচিত, যে গণমানুষকে তোয়াক্কা না করে বিগত সরকার দীর্ঘদিন দেশ চালিয়েছিল, সেই একই জনগণ কিন্তু তাদের গদিতে আগুন জ্বালিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনি।"
তিনি আরও যোগ করেন, বিপুলসংখ্যক আসন পেয়ে হাওয়ায় ওড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সময় থাকতে তা সংশোধন না করা হলে এবং উপযুক্ত রাজনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন না হলে এই অহংকার ভেঙে মাটিতে মিশে যাবে। এ সময় তিনি দেশের সার্বিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো প্রকার রাজনৈতিক আঁতাত বা সমঝোতা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
পথসভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও একই সুর মিলিয়ে বলেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাঠ প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরগুলোতে চাপ সৃষ্টি করার সংস্কৃতি এখনো বজায় রয়েছে। থানা, ইউএনও কিংবা ডিসি-এসপি অফিসগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের শক্তিকে খাটো করে দেখে গদি গরম করার রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন।