জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালে ১১ দলের ৭ দফা স্মারকলিপি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সকল মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। একই সাথে চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি দূর করার বিষয়ে ৭ দফা দাবি পেশ করেছে রাজনৈতিক জোটটির একটি প্রতিনিধিদল।

জুলাই-আগস্টের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সার্বিক বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি (চিফ প্রসিকিউটর) মো. আমিনুল ইসলামের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল ভবনে হাজির হয়ে চিফ প্রসিকিউটরের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। ১১ দলের এ প্রতিনিধিদলের সাথে বিচারপ্রার্থী শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে তুলে ধরা ৭ দফা দাবির মূল উপজীব্য ছিল তদন্তের ধীরগতি ও নিরাপত্তার অভাব। এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের প্রধান প্রধান অধিকাংশ ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। অনতিবিলম্বে এসব তদন্ত সম্পন্ন করে মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন ও বিচার শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ তোলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে অভিযুক্ত বহু উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হননি; বরং অনেকে নিজ দায়িত্বেই বহাল আছেন। পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ১১ দল।

প্রতিনিধি দলটি জানায়, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে অন্তত ৬১টি জেলায় কমবেশি মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অথচ ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া ব্যতিরেকে বাকি জেলার ঘটনাবলির বিষয়ে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অপরাধের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের মূল আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় ভুক্তভোগী পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এছাড়া গুম, নৃশংস হত্যা এবং লাশের আলামত নষ্টের পেছনে যেসব সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি অভিযুক্ত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। তদন্ত ও বিচারকাজে অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে শহীদ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মনে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর হতাশা ও সংশয় দেখা দিচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

তাসনিম হোসেন