বিশ্ব বাবা দিবস আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

বাবা—ভালোবাসা, নির্ভরতা আর নিরাপত্তার এক অমলিন নাম। সন্তানের জীবনে বটবৃক্ষের ছায়ার মতোই তিনি সুরক্ষা দেন, শাসন করেন, আবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আগলে রাখেন। বিশ্ব বাবা দিবসে সেই ত্যাগী ও কোমল হৃদয়ের মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের দিন আজ।

বাবা মানে নিঃশর্ত ভালোবাসা, মমতা আর দায়িত্বের এক অপার সমাহার। সন্তানের সুখের জন্য নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতে তিনি কখনো পিছপা হন না। শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর স্নেহ, আর কঠোরতার ভেতর থাকে অগাধ মমতা।

পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ বারবার এসেছে। তাদের সেবা-যত্নকে ইবাদতের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং সন্তানের জন্য দোয়া ও শ্রদ্ধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত। তাদের অবহেলা বা কষ্ট দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, বরং তাদের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বদা।

অন্য ধর্মীয় বিশ্বাসেও পিতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাকে স্বর্গ, ধর্ম এবং পরম তপস্যার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

বাবা সন্তানের জীবনের শুরু থেকেই ছায়ার মতো পাশে থাকেন। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি নিরাপত্তা, দিকনির্দেশনা ও শক্তির উৎস হয়ে ওঠেন। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, নিজের কষ্ট আড়াল করে রাখেন সবসময়।

বিশ্ব বাবা দিবসের ইতিহাস অনুযায়ী, জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বহু দেশে এই দিনটি পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি স্বীকৃতি পায় এবং পরে তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে অনেকেই মনে করেন, বাবার ভালোবাসা কোনো এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিনের প্রতিটি মুহূর্তেই সন্তানের জন্য বাবার ত্যাগ, কষ্ট ও ভালোবাসা চলমান থাকে।

সমাজে কিছু ক্ষেত্রে বাবা অবহেলিত হলেও, তাঁর নীরব ত্যাগ ও ভালোবাসা সন্তানের জীবনের ভিত্তি হয়ে থাকে—যা কোনোদিনই পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

তাসনিম হোসেন