নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান কেন সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন।
রুলে সরকারের কাছে তিনটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের নির্দিষ্ট ধারাগুলো কেন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, এবং সব কর্মজীবী নারীর জন্য কেন একটি অভিন্ন মাতৃত্বকালীন সুবিধা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে না।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও সমতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মৌলিক অধিকার। তাই তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা সীমিত করা বৈষম্যমূলক।
আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা থাকার কারণে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, যা সমান অধিকার ও আইনের আশ্রয়ের নীতির পরিপন্থি।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। তারা বলেন, মাতৃত্বকালীন অধিকার কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার অংশ।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগামী নির্ধারিত সময়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।