উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা কেন্দ্র ছিল মেক্সিকোর সিনালোয়া রাজ্যের এল প্রোগ্রেসো শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের এই ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন হয়। অগভীর ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সাধারণত কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়ে থাকে। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সমুদ্রের তলদেশে হওয়ায় মেক্সিকোর মূল ভূখণ্ডে লাইট থেকে মডারেট (হালকা থেকে মাঝারি) কম্পন অনুভূত হয়েছে।
আশপাশের শহরগুলোতে আতঙ্ক ও সুনামি শঙ্কা নেই
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন মেক্সিকোর সিনালোয়া রাজ্যের উপকূলীয় শহর লস মোচিস, গুয়াসাভে, লেইভা সোলানো এবং কুলিয়াকানে বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। তবে মেক্সিকোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও ইউএসজিএস স্পষ্ট জানিয়েছে, শক্তিশালী কম্পন সত্ত্বেও সমুদ্র বা উপকূলীয় অঞ্চলে কোনো ধরনের সুনামির বড় হুমকি বা সতর্কতা জারি করা হয়নি। ইউএসজিএস-এর পক্ষ থেকে ‘গ্রিন পেজার’ অ্যালার্ট দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ এই ভূমিকম্পে মানুষের জীবন বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম।
বৈশ্বিক ভূমিকম্প পরিস্থিতি ও ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়
মেক্সিকো মূলত বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ এবং তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় কম্পন দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ভূগর্ভস্থ আলোড়নের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
মেক্সিকোর এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি প্রলয়ংকরী ও ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৫৮ হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই তুলনায় মেক্সিকোর এই দফায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে স্থানীয় উদ্ধারকারী ও ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।