যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ডাউনিং স্ট্রিটে ‘কিং অব দ্য নর্থ’

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত

এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক আহ্বানের পর নতুন সরকার গঠন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে স্যার কিয়ার স্টার্মারের দুই বছরের ডাউনিং স্ট্রিটের অধ্যায়ের অবসান হলো।

লেবার পার্টিকে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেওয়ার প্রায় দুই বছর পর দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও জনপ্রিয়তায় ভাটার মুখে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়তে হলো স্টার্মারকে। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। উত্তর ইংল্যান্ডে তার এই শক্তিশালী ভিত্তির কারণে রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিত।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের সামনে বেশ কিছু কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে:

  • ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা বার্নহ্যামের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ট্রাম্প তাকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ (Very Liberal) বলে মন্তব্য করেছিলেন।

  • ভোটারদের আস্থা ও দলীয় জনপ্রিয়তা: সাম্প্রতিক সময়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। একদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি দল 'রিফর্ম ইউকে' (Reform UK) যেমন তাদের সমর্থন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে প্রগতিশীল ভোটারদের নিজেদের দিকে টানছে গ্রিন পার্টি।

  • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক ও কিয়ার স্টার্মারের পর দায়িত্ব নেওয়া বার্নহ্যামের সবচেয়ে বড় কাজ হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে পারলেই পূর্বসূরিদের তুলনায় দীর্ঘ সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে টিকে থাকতে পারবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

তাসনিম হোসেন