প্রশ্ন ফাঁস পুরো জাতির দায়: মোদি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা কেবল কোনো একক সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং পুরো জাতির যৌথ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ নামক বিশেষ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা ও অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এনডিএ জোটের সব শরিক দলকে যেকোনো আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকেও দেশের স্বার্থে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা দলীয় স্বার্থ যা-ই থাক না কেন, তরুণ প্রজন্ম ও দেশের ভবিষ্যতের কল্যাণে সকল সংসদ সদস্যের ওপর একটি গুরুদায়িত্ব অর্পিত রয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বিবৃতিটি এমন একটি উত্তপ্ত সময়ে সামনে এল, যখন ভারতের রাজপথ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল। সোমবার দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় আন্দোলনরত হাজার হাজার তরুণ জেন-জি আন্দোলনকারীর ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে পুলিশ। ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে বিক্ষোভে নামা এই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চরম অনিয়ম এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ভারতের সবচেয়ে কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাগুলোর অন্যতম নিটে প্রতি বছর ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে থাকেন। প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরে গত মাসের শেষ সপ্তাহে পুনরায় এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। তবে শুধু নিট নয়, কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে; যেখানে ভুল নম্বর দেওয়া এবং তথ্য বিভ্রাটের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন শিক্ষার্থীরা।

সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পরপরই মোদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। জড়িতদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় ও ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য মোদি বিলম্ব না করে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে টানা ২১ দিন ধরে অনশনে থাকা বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরবর্তীতে সোমবার হাসপাতাল থেকেই তিনি পুনরায় অনশন চালিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এবং শান্তিকামী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এহেন বলপ্রয়োগ ও কঠোর আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

তবে রাজপথে পুলিশি অ্যাকশন এবং সমাজকর্মীর অনশন নিয়ে জোর চর্চা চললেও, ভারতীয় সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণ কিংবা বক্তব্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তাসনিম হোসেন