আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম রাই স্পোর্ত-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ফাইনালে তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল দলগত শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ এবং বলের দখল ধরে রেখে লিওনেল মেসিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা।
কোচের চোখে স্পেনের বিশ্বজয়ের প্রধান ৪টি কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মেসিকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে দূরে রাখা
দে লা ফুয়েন্তে জানান, ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রভাব কমিয়ে দেওয়াই ছিল তাদের অন্যতম বড় লক্ষ্য। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডাররা নিখুঁতভাবে বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে মেসিকে বক্সের আশেপাশে কোনো বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করতে দেননি এবং তাকে পুরো ম্যাচজুড়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখেন।
২. ধারাবাহিক উন্নতি ও ম্যাচ থেকে শিক্ষা
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেন ধারাবাহিকভাবে নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতি করেছে। কোচের ভাষায়, "আমরা দারুণ একটি বিশ্বকাপ খেলেছি এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই শিখেছি। ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেছি। আফসোস, ম্যাচটি আরও আগেই জিতে নিতে পারতাম। তবে ত্যাগ স্বীকার করে অর্জিত এই জয়ই সবচেয়ে মূল্যবান।"
৩. দলগত ঐক্য ও সমন্বিত পারফরম্যান্স
দে লা ফুয়েন্তের মতে, স্পেনের এই সাফল্যের পেছনে কোনো একক তারকার ম্যাজিক ছিল না, বরং পুরো দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে শতভাগ সচেতন ছিল।
৪. বিশ্বের সেরা স্কোয়াড
নিজের শিষ্যদের বিশ্বসেরা আখ্যা দিয়ে স্প্যানিশ বস বলেন, "আমার দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। তারা বিশ্বের সেরা। তারা মাঠের কঠিন বিষয়গুলোকেও সহজ করে তোলে এবং সবসময় শতভাগ নিবেদন নিয়ে খেলে। আমাদের দলটিই টুর্নামেন্টের সেরা দল ছিল এবং আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে ভীষণ গর্বিত।"