রণকৌশলে গলদ: স্কালোনির ভুলেই ট্র্যাজিক বিদায় মেসির

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যখন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল ফুটবল বিশ্ব, ঠিক তখনই গ্যালারিতে ধরা পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য। হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক লিওনেল মেসির নাম ধরে গান গাইলেও ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তিকে দেখা যায় নীরব ও বিষণ্ন। শিরোপা উঁচিয়ে বিদায় নেওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল তার।

৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা

ফাইনালে আর্জেন্টিনার রণকৌশলই তাদের ডুবিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও শারীরিক লড়াইনির্ভর কৌশল বেছে নেওয়ায় মাঠের খেলায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মেসি। পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সাক্ষ্য দেয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো অন টার্গেট শট নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। পুরো ম্যাচে স্পেনের অন টার্গেট শট ছিল ১২টি, বিপরীতে আর্জেন্টিনার ছিল শূন্য। অতিরিক্ত সময়ের ১১৭তম মিনিটে মেসি গোল করার একটি শেষ সুযোগ পেলেও তার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ফাউল ও কার্ডের মহড়া, ম্লান ফাইনাল

পুরো ম্যাচে স্পেন যখন ছন্দময় ফুটবল খেলছিল, তখন আর্জেন্টিনা বারবার জড়িয়ে পড়ে ফাউল ও উত্তেজনায়। প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে আর্জেন্টিনা যতটি পাস দিয়েছে (৮টি), তার চেয়ে বেশি ফাউল করেছে (৯টি)। ম্যাচের শুরুতেই দানি ওলমোর ওপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কঠিন ফাউলকে কেন্দ্র করে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ম্যাচের শেষভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনার হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমনকি ম্যাচ শেষের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ফাইনালের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান করে দেয়।

বিদায়ের সুর ও আবেগাক্রান্ত স্কালোনি

বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ৩৪তম ম্যাচ। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের বুকে জড়িয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। বিশ্বমঞ্চে এটাই হয়তো আর্জেন্টাইন মহাতারকার শেষ অধ্যায়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। অধিনায়কের বিদায় নিয়ে কথা বলতে বলতেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে চলে যান।

শিরোপা দিয়ে শেষটা রাঙানো না গেলেও, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে নিজের অসাধারণ প্রভাব, অসংখ্য রেকর্ড এবং অনন্য শৈল্পিক ফুটবলের জন্য লিওনেল মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাসনিম হোসেন