১০ টাকার খাজনার রশিদে ২০ হাজার টাকা ঘুষ! গণরোষের মুখে ফেরত দিলেন তহশিলদার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত

মাত্র ১০ টাকার সরকারি ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ দিতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভূমি অফিস ঘেরাও করলে তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভুক্তভোগীকে পুরো টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ওই কর্মকর্তা।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

ভুক্তভোগী আজিজুল হক জানান, গত ১৪ জুলাই জমির নতুন অর্থবছরের খাজনা রশিদ সংগ্রহ করতে তিনি জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। তার দাবি, একই জমির রশিদের জন্য প্রায় ছয় মাস আগেও তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল। এবার তহশিলদার লিটন দেওয়ান বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে রশিদ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

বাধ্য হয়ে আজিজুল হক তহশিলদারের নির্দেশিত একটি বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান। টাকা প্রাপ্তির পর তাকে যে সরকারি রশিদটি দেওয়া হয়, তাতে দেখা যায় সরকারি করের পরিমাণ মাত্র ১০ টাকা! অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের দাবি জানালে আজিজুলকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ‘কোনো টাকা নেওয়া হয়নি’—এমন একটি বক্তব্য জোরপূর্বক তার মুখ থেকে বলিয়ে ভিডিওতে ধারণ করেন তহশিলদার।

অফিস ঘেরাও ও টাকা ফেরত

ভুক্তভোগী আজিজুল হক কক্ষ থেকে বের হয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। স্থানীয়দের তোপ ও চাপের মুখে একপর্যায়ে অভিযুক্ত তহশিলদার লিটন দেওয়ান নেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই তহশিলদার দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি ফি-র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তহশিলদার লিটন দেওয়ানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার অফিসে যাওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও দেখেছেন। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তহশিলদারের বক্তব্য নেওয়া হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাসনিম হোসেন