জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইতোমধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীও নির্ধারণ করেছে দলটি। কয়েকটি এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে পাঠানো সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে জামায়াত। এরই মধ্যে অন্তত চারটি সিটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সভা ও সমাবেশে তাদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৩ সময়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সম্পাদক এবং ২০১৪ থেকে ২০১৫ সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সম্পাদক ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিটিতে জামায়াতের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী। তিনি এর আগে চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। অন্যদিকে রংপুর সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন মহানগর আমির এ টি এম আজম খান।
এদিকে রাজধানীর উত্তর সিটিতে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। দক্ষিণ সিটিতে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামেও পরিচিত।
এ ছয়জন ছাড়াও দেশের বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর জন্যও সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ করেছে জামায়াত—এমন তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে অংশ নেয়। এই জোটে বিভিন্ন ইসলামি দলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে দলটি একক কৌশলে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ এক গণমাধ্যমকে বলেন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অধিকাংশ জায়গায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রার্থী নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কিছু এলাকায় ১১ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল এককভাবেই অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রতীকে ও নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।