ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারককে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তাঁর মতে, এই সমঝোতা স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে জন বোল্টন বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা ওয়াশিংটনের জন্য মোটেও ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি ব্যর্থ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, সামরিক পর্যায়ে কিছু অর্জন থাকলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক জটিল কৌশলগত পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল। বোল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন পদক্ষেপ আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাবেক এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছিল। সমঝোতার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
বোল্টনের মতে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ওয়াশিংটনের জন্য অনুকূল নাও হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তেল রপ্তানি থেকে আয় বাড়ার পাশাপাশি অতীতে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। জন বোল্টনের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।