আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের কাছ থেকে নতুন করে সেবামূলক ফি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে সংকটকালীন সময়ে যেসব দেশ তেহরানের পাশে ছিল, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও ছাড় রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটের সাথে সমন্বয় করে এই নতুন নৌ-ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।
চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে অংশ নিয়ে দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রাহমানি ফাজলি এই ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি মূলত ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। তাই সেখানে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে এই ফি নেওয়া হবে, তবে এটিকে কোনো 'টোল' বা অন্যায্য কর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার, ট্রাফিক তদারকি এবং বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলা করা হবে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য এই রুটটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর আগে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় ইরান এই নৌপথ অবরুদ্ধ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক সমঝোতার পর এই অবরোধ তুলে নেয় তেহরান। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও, এই নতুন ফি চালুর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।