আন্দোলনের শঙ্কায় এইচএসসি কেন্দ্রে অভিভাবকদের বাড়তি উপস্থিতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং পরীক্ষা শেষে ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বুধবার দেখা গেছে বাড়তি সতর্কতা। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় অন্য দিনের তুলনায় বেশি সংখ্যক অভিভাবক পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করেন এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সপ্তম দিনের পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। কেউ কেন্দ্রের ফটকের সামনে, কেউ গাছের ছায়ায়, আবার কেউ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অনেকের মুখেই ছিল উদ্বেগের ছাপ।

আজ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টায় রাজধানীর উত্তরা বিএনএস কেন্দ্র থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিকে ঘিরেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবক নাসরিন আক্তার বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির কারণে সন্তানদের একা পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। তাই পরীক্ষা শেষ হলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই বাসায় ফিরবেন।

আরেক অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হোক, সেটাই প্রত্যাশা। তবে পরীক্ষা শেষে কর্মসূচি থাকায় সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি কেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন।

অভিভাবক আবদুল কাদের জানান, সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় কেন্দ্রে আসেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই তিনি কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, যাতে ছেলে পরীক্ষা শেষ করেই নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

তবে আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

তাসনিম হোসেন