অশিক্ষিত মিলন চাই না, আমার শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষিত মিলন চাই। শিক্ষামন্ত্রী মিলনকে বাথরুমে পানি খাওয়াতে চাই। আন্দোলন ও বিক্ষোভ কারী সাধারন শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই অশিক্ষিত মিলন আমাদের ফার্মে মোরগ বলে। কোনো শিক্ষিত মন্ত্রী এমন কথা বলতে পারে না।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে উত্তাল মৌলভীবাজার। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোর্ট রোড থেকে মিছিল নিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনী অবরোধ করে রাখে। এতে বন্ধ হয়ে যায় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, শাহ মোস্তফা কলেজ সহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তখন
অশিক্ষিত মিলন চাই না, শিক্ষিত মিলন চাই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমরা আর এই অবিচার মানবো না। শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
আরেকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভের সাথে বলেন,
শিক্ষামন্ত্রী মিলনকে আমরা শিক্ষাঙ্গণে চাই না। আমরা শিক্ষার মান চাই, বৈষম্য চাই না। সরকার আমাদের কথা শুনছে না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে।
মৌলভীবাজার শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনকরা হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য বিগত বেশ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথারীতি চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কিছুদিন পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
এর মধ্যে গত সোমবার (১৩ জুলাই) প্রবল বর্ষণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মূলত এরপরই শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা শুরু হয়
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।