“আমার কাছে স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান?” বলে টিউশন শিক্ষিকাকে কোপালেন ছাত্রীর মা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষককে ঘরে আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রীর মায়ের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষিকা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে টিউশনির পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে এ হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার অভিযোগে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গত তিন মাস ধরে তিনি অভিযুক্তের সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। মাসিক দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিকের বকেয়া চাইলে ক্ষুব্ধ হন প্রিয়া বেগম। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার পড়ানো শেষে শিক্ষিকা চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালান তিনি।

দরজা বন্ধ থাকায় পালাতে পারেননি সিঁথি। হামলায় তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আরও কয়েকটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথায় অন্তত ১০টি কোপের আঘাত রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা বলেন, প্রথম কোপের পর তিনি দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেদিন দরজায় অতিরিক্ত ছিটকিনি লাগানো ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় অভিযুক্ত তার পরা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

মামলার বাদী শিশু মিয়া দাবি করেন, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 
 

তাসনিম হোসেন