কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে দা হামলার শিকার হয়েছেন এক গৃহশিক্ষিকা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষিকাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার অভিযোগে ছাত্রীর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক গৃহশিক্ষিকার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে এবং দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা। তিনি স্থানীয় একটি শিশু শিক্ষালয়ের শিক্ষিকা এবং পাশাপাশি গৃহশিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন। হামলার অভিযোগে ছাত্রীর মা প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তিনি এক শিক্ষার্থীর বাসায় পড়াতে যান। পাঠদান শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিজের ফেলে যাওয়া ছাতা আনতে আবার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীর মা ধারালো দা দিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। হামলায় তার দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার রাতেই আহত শিক্ষিকার চাচাশ্বশুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
মামলার বাদী শিশু মিয়া জানান, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত নারী শিক্ষিকার কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। সেই টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।
আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার জানান, তার ভাবির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ভৈরব থানার উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির বলেন, জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।