সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার মাত্র দুই দিনের মাথায় ইটবোঝাই ভারী ট্রাকের ওজনে আবারও ভেঙে পড়েছে রাঙামাটির কাউখালী-রানীরহাট সংযোগ সড়কের একটি বেইলি সেতুর পাটাতন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সেতুর ওপর বিপজ্জনকভাবে আটকে থাকায় কাউখালী উপজেলার সঙ্গে রাঙামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সরাসরি যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
রাঙামাটির কাউখালী-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কে বেইলি সেতু ধসে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন চালক। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় সেতুটির স্টিলের পাটাতন ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মাত্র কয়েক দিন আগে গত শনিবারও একই সেতুর পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দ্রুত সংস্কার তৎপরতায় মেরামত কাজ শেষে মঙ্গলবার থেকে পুনরায় সেতুটিতে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছিল। তবে চলাচলের অনুমতি মেলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় আবার একই ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটল।
দুর্ঘটনার পর সড়কটি দিয়ে সব ধরনের ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে রাঙামাটি, কাউখালী ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। সড়কটির দুই পাশে আটকে পড়েছে অসংখ্য গণপরিবহন ও পণ্যবাহী গাড়ি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সেগুনবাগান, বহড়াতল, বেতছড়ি ও ত্রিপুরা দিঘি এলাকার ইটভাটাগুলো থেকে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি ইটবোঝাই ট্রাক নিয়মিত এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সেতুটির মুখে স্পষ্টভাবে পাঁচ টনের অধিক ওজনের গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করে সতর্কবার্তা দেওয়া থাকলেও, অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক তোয়াক্কা না করেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বারবার এই বেইলি সেতুটিতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, "আইন অনুযায়ী পাঁচ টনের বেশি ওজনের গাড়ি ব্রিজে ওঠা একদম নিষেধ। কিন্তু কিছু অসাধু চালক ও ব্যবসায়ী সূর্যাস্ত বা ভোররাতের অন্ধকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ইটবোঝাই করে ব্রিজ পার হওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলেই বারবার কাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, আটকে থাকা ইটবোঝাই ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর সওজের প্রকৌশলী ও কর্মীরা অনতিবিলম্বে পাটাতন মেরামতের কাজে হাত দেবেন, যাতে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ পুনর্স্থাপন করা যায়। স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ সরিয়ে সেখানে একটি আধুনিক কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ামাত্রই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
এদিকে, মাত্রাতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচল রোধে প্রশাসনিক নজরদারির বিষয়ে জানার জন্য রাঙ্গুনীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল আহসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাউখালী-রানীরহাট সড়কের মাত্র ৮ কিলোমিটার সীমানার ভেতরে মোট চারটি বেইলি সেতু রয়েছে, যার প্রতিটিরই বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দুটি স্থানে কংক্রিটের স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কাজের অগ্রগতি খুবই ধীরগতির বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।