নওগাঁয় আর্জেন্টিনা নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান: ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

নওগাঁ সদর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে ফুটবল খেলা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান গাওয়ার অপরাধে ১৭ জন শিশু শিক্ষার্থীকে তার দিয়ে পিটিয়ে আহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

নওগাঁর সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে এ অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রিয় ফুটবল দলের হার ও সমর্থক শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গাত্মক গান গাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই পেটানো হয়েছে।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি ওই স্কুলেই কর্মরত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এ সুযোগে আর্জেন্টিনার সমর্থক ওই শিক্ষককে লক্ষ্য করে ব্রাজিল সমর্থক কয়েকজন শিক্ষার্থী ফুটবল খেলা ও প্রিয় দলের হার নিয়ে ট্রল বা ব্যঙ্গাত্মক সুরের গান গাইতে শুরু করে। গানের শব্দ পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সাথে থাকা বৈদ্যুতিক তার দিয়ে কক্ষে থাকা শিশুদের বেধড়ক পেটাতে থাকেন।

শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত মোট ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অন্তত ১৭ জন শিক্ষার্থী এই মারধরের শিকার হয়। পিটুনির আঘাতে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীই শরীরে নানা স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার ও আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলে, "সালাম স্যার আর্জেন্টিনা দল করেন। তাদের দল হেরে যাওয়ায় আমরা বন্ধুরা মিলে মজা করে একটি গান গাইছিলাম। তা শুনেই স্যার তীব্র রেগে যান এবং বৈদ্যুতিক তার দিয়ে আমাদের পিঠে ও শরীরে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন।"

ঘটনার জানাজানি হতেই পুরো নারচী মোড় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বুধবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে নারচী মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করেন। শরিফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ছোট শিশুদের ওপর এমন নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা ও অপসারণ চাই।"

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের এভাবে মারধর করা আমার ভুল হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি হাত জোর করে সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।"

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানাউল হাবিব জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। তবে ভুক্তভোগী পরিবার বা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাসনিম হোসেন