বন্যা আশঙ্কা: ফুসছে কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

অনবরত মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা স্টেশনে বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের একাধিক জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশের সার্বিক পানি পরিস্থিতি ও আবহাওয়া বার্তা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার অধীন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং আত্রাই অববাহিকার নওগাঁ জেলায় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া বা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। বিপরীতে, সোমেশ্বরী অববাহিকাভুক্ত নেত্রকোনা জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরী অববাহিকার বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা; তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলা এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর তীরবর্তী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিগত ২৪ ঘণ্টার তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির ধারা আগামীকাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে এবং পরদিন তা স্থিতিশীল রূপ নিতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা সাময়িকভাবে বন্যাকবলিত হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যা আগামীকাল পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দিন থেকে কমতে শুরু করবে। নওগাঁর নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী প্লাবন দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান নদী—মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি বিগত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও তা আগামীকাল থেকে পুনরায় বাড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী এলাকা সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এবং ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ১ দিন পর থেকে এগুলোর পানি আরও কমতে পারে, তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কিছু স্থানে নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অপরিবর্তিত থাকলেও যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি নিয়মিত বাড়ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী দুই দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল আগামী টানা ৫ দিন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে পানি সতর্কসীমায় গিয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

তাসনিম হোসেন