টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নে ত্রুটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের পর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন (২ নম্বর সেট, যমুনা) নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
বোর্ড জানায়, পর্যালোচনায় যদি প্রশ্নে কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন দুটির জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে না দিয়ে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তাদের ভাষ্য, ১৩ জুলাই সকালে কয়েকটি কেন্দ্রে, বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সাময়িক ভোগান্তি হলেও স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হন।
সমন্বয় কমিটি আরও জানায়, প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম, ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সামগ্রিক শিক্ষাপঞ্জির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বারবার পরীক্ষা স্থগিত করা বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের সমস্যায় সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।