টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবির মধ্যে দেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠকে বসেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। কেন্দ্রগুলোর তথ্য সংগ্রহের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, সারা দেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীরা হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে কতগুলো জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে নেই।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। তারা বলছেন, কয়েকদিন পরীক্ষা পেছালে বড় কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক রেহানা খাতুন বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হওয়ার পরও তার সন্তানকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা বোর্ডের আরও মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত দিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারি হামিম। তারা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, দেশের বর্তমান বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।