ইসরায়েলের ৩৩০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধের একটি বিলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট পার্টির অভ্যন্তরে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর শীর্ষ নেতৃত্ব সংসদ সদস্যদের নিজেদের বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সদস্য বেনি থম্পসন ‘দ্য হিল’ পত্রিকাকে জানিয়েছেন যে মার্কিন আইনসভায় ইসরায়েলকে নিয়ে এই ধরনের নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বিতর্ক তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আর কখনো দেখেননি। আইনপ্রণেতা রাশিদা তলাইবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রস্তাবের ওপর প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের ভেতরের এই গভীর ফাটল এবং অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্যের কঠোর বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত এই বিশেষ সংশোধনী বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
প্রগতিশীল বনাম মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটদের দ্বন্দ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট অংশের প্রধান মুখ আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ এবং রাশিদা তলাইব এই বিলটির পক্ষে শুরু থেকেই জোরালো সমর্থন প্রকাশ করে আসছেন। তারা ইসরায়েলের ওপর এই আর্থিক চাপ সৃষ্টিকে অপরিহার্য মনে করছেন।
বিপরীতে, দলের প্রভাবশালী মধ্যপন্থী অংশ এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগ মিকস ‘জুইশ ইনসাইডার’-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন; কারণ তিনি চান না ইসরায়েল তাদের প্রয়োজনীয় সামরিক সমর্থন থেকে কোনোভাবে বঞ্চিত হোক।
মানবিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধের শঙ্কা
একই সুরে সুর মিলিয়ে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথও এই বিলের ব্যাপারে তার স্পষ্ট বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডাম স্মিথ মনে করেন এই প্রস্তাবটি পাস হলে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত মানবিক ও কৌশলগত সামরিক সাহায্যসহ সব ধরনের মার্কিন সরকারি অনুদান একযোগে বন্ধ হয়ে যাবে—যা মার্কিন ভূ-রাজনীতি ও মিত্রতার স্বার্থে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব মিলিয়ে বিলটিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তপ্ত।