৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্লেইবার মোরান নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই অলৌকিক ও বিরল উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়।

ভেনেজুয়েলায় আন্তর্জাতিক সহায়তায় নিয়োজিত জর্ডানের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি ধসে পড়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশু ক্লেইবারকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের ভারী স্ল্যাব ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিথরপ্রায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বাইরে নিয়ে আসছেন।

জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উদ্ধার করার পরপরই ক্লেইবারকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিমানযোগে রাজধানী কারাকাসের একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে (গোল্ডেন আওয়ার) জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। সেই হিসেবে ১৪৪ ঘণ্টা বা canceled বা ছয় দিন পর একটি অবোধ শিশুর জীবিত উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, এই সফল উদ্ধার অভিযান ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও মানুষের মধ্যে নতুন করে বাঁচার আশার বার্তা এনে দিয়েছে।

প্রাণহানি ১৯০০ ছাড়াল, ভেঙে পড়েছে খাদ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা

এদিকে দেশটিতে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও তীব্র আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন। বিশেষ করে লা গুয়াইরায় মৌলিক সেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ড্যানিয়েলা আরমাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, "কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে খাবার ও পানি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ক্ষুধার্ত মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।"

আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান ও মহামারির শঙ্কা

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, সুরক্ষা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অন্তত দেড় কোটি মার্কিন ডলার জরুরি তহবিলের প্রয়োজন।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় টিকাদানের হার কম থাকায় হামসহ টিকায় প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও মহামারি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার অভিযান এখনও সচল রয়েছে এবং ক্লেইবার মোরানের অলৌকিক বেঁচে ফেরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশার সঞ্চার করেছে।

তাসনিম হোসেন