ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৬০০ কেজি আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমগুলো ভারতের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
দুই প্রতিবেশী দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও এই আম কূটনীতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মোট ১২০ কার্টন আম পাঠানো হয়েছে। প্রতি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম রয়েছে। উপহারের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম সুস্বাদু ও বিশ্বখ্যাত দুই জাত—আম্রপালি এবং রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম।
আখাউড়া স্থলবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা
আখাউড়া কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বিশেষ পিকআপ ভ্যানে করে দুপুরে আমগুলো কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে আনা হয়। এরপর কাস্টমসের যাবতীয় প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। কাস্টমস ছাড়পত্র পাওয়ার পর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট ‘শোয়েব ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’-এর বিশেষ তত্ত্বাবধানে আমের কার্টনগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আগরতলায় প্রবেশ করে।
বণ্টন ও দুই দেশের সম্পর্ক
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা সীমান্ত থেকে উপহারের আমগুলো গ্রহণ করেছেন। এই আমগুলো খুব দ্রুতই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার সরকারি বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গুরুত্বপূর্ণ আমলা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছেও এই শুভেচ্ছা উপহারের আম বণ্টন করা হবে। এই ধরনের মৌসুমী ফল উপহার দেওয়ার রেওয়াজ দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক মৈত্রী ও পারস্পরিক হৃদ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কূটনৈতিক মহল।