২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য অর্জনের পর দেশে ফিরেছে মিশর জাতীয় ফুটবল দল। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) দলটি দেশে পৌঁছালে আল আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো সমর্থক তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক গান ও অভিনন্দনসূচক ব্যানারে পুরো বিমানবন্দর এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে মিশর। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও ছিল ফারাওরা। তবে শেষ সময়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এই ম্যাচে রেফারির দেওয়া বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে যাওয়ায় নেট দুনিয়ায় রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বীরদের সংবর্ধনা ও সালাহর বিদায়ী বার্তা
বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের একটি খোলা ছাদের বাসে করে নোভা আলামেইন শহর ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ করতালি ও স্লোগানে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। সমর্থকদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘মিশরের বীরেরা আমাদের গর্বিত করেছে।’ আজ শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেও দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর জন্য এটিই সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে মিশরের এই অর্জন দেশের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও কোচ হোসাম হাসানের সাফল্য
দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর প্রধান কোচ হোসাম হাসানকেও সমর্থকরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সংবর্ধনাকালে অনেক সমর্থককে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়, কারণ বিশ্বকাপ চলাকালেও কোচ হোসাম হাসান বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচের চুক্তির মেয়াদ সম্প্রতি আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার অধীনে মিশর ৩৫টি ম্যাচ খেলে ২০টিতে জয়, ৯টিতে ড্র এবং মাত্র ৬টিতে হেরেছে।
ভাঙল ‘ফারাওদের অভিশাপ’
দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে ইতিহাস গড়েছে মিশর। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও আফ্রিকার এই দেশটি কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। এবার শেষ ষোলোয় ওঠার মাধ্যমে তারা নিজেদের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য অর্জন করল।