শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরবর্তীতে তাঁকে ওরলি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় আয়োজিত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়েন ভারতের পরিচিত মুখ ও অভিনেত্রী আয়েশা খান। সেখানে উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ।

পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় ওরলি থানায়। সেখানে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে পরবর্তীতে তাঁকে মুক্তি প্রদান করা হয়। মুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই এই পুরো আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

প্রকাশিত ভিডিওতে অত্যন্ত বিচলিত আয়েশা খানকে বলতে শোনা যায়, "ঘটনার আকস্মিকতায় এখন আমার হাত সত্যিই কাঁপছে। আমি কোনো বিশৃঙ্খলা করিনি, কেবল শান্ত হয়ে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাকে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।"

অভিনেত্রীর দাবি অনুযায়ী, তিনি বা তাঁর সঙ্গীরা ওই স্থানে কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা বিক্ষোভের সূচনা করেননি। আন্দোলনের মূল জায়গায় পৌঁছানোর পরপরই তাঁর ভাই এবং সাথে থাকা কয়েকজন পুরুষ বন্ধুকে পুলিশ আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তিনি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি বোঝার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই পুলিশ তাঁকেও তুলে নিয়ে যায়।

আয়েশা খানের শেয়ার করা সেই ভিডিওটিতে আরও এক ভুক্তভোগী যুবককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ওই যুবক আক্ষেপ করে জানান, সামনেই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গণিত পরীক্ষা রয়েছে। কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে পুলিশ মিছামিছি আটক করেছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ভিডিওতে ওই পরীক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো যদি তিনি পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে না পারেন, তবে তাঁর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও একটি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন নারী পুলিশ সদস্য আয়েশাকে জোর করে পুলিশের ভ্যানে তুলছেন। সে সময় অভিনেত্রী বারবার নারী পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চাইছিলেন, তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি।

ভিডিও ক্যাপশনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে আয়েশা লেখেন, "অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে গাড়িতে তুলতে চারজন নারী পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আমার সোজা প্রশ্ন— কেন? আমি কি সেখানে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি করেছি? আমি কি কোনো হট্টগোল শুরু করেছিলাম? তবে আমাকে কেন আটক করা হলো? শুধু ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকার অপরাধে? এমনকি আমি তো আইন অমান্য করে পাঁচজনের বেশি মানুষের সাথেও একত্রিত হইনি।"

পুরো ঘটনায় চরম স্তম্ভিত ও মানসিক ধাক্কা খেয়েছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'নিট' ভর্তি পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে সমর্থন জানাতেই তিনি ভাই ও বন্ধুদের নিয়ে দাদার এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সমাবেশস্থলে পা রাখতেই পুলিশ তাঁদের সাফ জানিয়ে দেয়, সেখানে কোনো রূপ বিক্ষোভ বা জমায়েত করার অনুমোদন নেই। এরপরই একে একে তাঁর ভাই ও সঙ্গীদের ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়।

ভাইকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আর পরবর্তীতে তাঁর কী করণীয়— তা ভেবে যখন তিনি ফুটপাতে ইতস্তত করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য এসে তাঁকেও বলপ্রয়োগ করে গাড়িতে তোলেন এবং ওরলি থানায় নিয়ে যান।

তবে সার্বিক হয়রানির অভিযোগ তুললেও ওরলি থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আচরণের প্রশংসা করেছেন আয়েশা। তিনি জানান, থানার ভেতরের পরিবেশ ও পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার বেশ ভালো ছিল। তবে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছাড়া পেলেও, কোনো নিয়ম না ভাঙার পরও কেন তাঁকে এভাবে হঠাৎ আটক করা হলো— সেই রহস্য এখনো তাঁর কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

তাসনিম হোসেন