হরমুজ প্রণালি বন্ধে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি, অক্টোবরের পর সংকটের শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এর ফলে বাংলাদেশে সামনে ‘চরম সার সংকটের’ দেখা দিতে পারে বলে মারাত্মক পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আলজাজিরায় প্রকাশিত ডব্লিউএফপির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়ায় সারের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ মূলত প্রতি বছর তার প্রয়োজনীয় মোট ইউরিয়া সারের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আমদানি করে থাকে। বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও পরিবহন জটিলতায় সেই আমদানি রুট বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে সারের যে পরিমাণ গুদামজাত মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

ডব্লিউএফপি আরও প্রকাশ করেছে, সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে ইউরিয়া সারের দর ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই আকাশচুম্বী দামের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও উৎপাদনে দেখা দিয়েছে বড় ধাক্কা। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে পরিচালিত পাঁচটি রাষ্ট্রীয় ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটিতেই উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দেশীয় উৎপাদন থমকে যাওয়ার এই জোড়া ধাক্কায় দেশের কৃষি খাতে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো সার সংকট সমাধান না করা গেলে এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশে আনুমানিক ১ কোটি ৮১ লাখ (১৮.১ মিলিয়ন) মানুষ মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। (তথ্যসূত্র: আলজাজিরা)

তাসনিম হোসেন