মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষ 'হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস'-এ সামান্যতম ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে ২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন বা ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ)’-এর নিজস্ব খসড়া বিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সামাজিক খাতে বরাদ্দ ছাঁটাই এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে চলমান তীব্র রাজনৈতিক মতভেদের মাঝেই জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের সবুজ সংকেত পেয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ভোটাভুটিতে ২১৬-২১২ ভোটের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ব্যবধানে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
ভোটাভুটির ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত দুই দলের কট্টর রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অধিকাংশ আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের এই বাজেটের পক্ষে তাঁদের রায় দিলেও বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধিরা প্রায় একজোট হয়ে বিলটির বিরোধিতা করেছেন।
বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের প্রধান আপত্তি ছিল বাজেটের অসম বন্টন নীতি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দল রিপাবলিকানরা যখন দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণমুখী সামাজিক খাত ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাজেট প্রতিনিয়ত কাটছাঁট করছেন, ঠিক তখনই পেন্টাগন ও সামরিক খাতের জন্য পাহাড়সম অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের সামাজিক নিরাপত্তা নেট সংকুচিত করে প্রতিরক্ষা খাতে এ ধরনের রেকর্ড বাজেট বরাদ্দকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন কোষাগার থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিপুল অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ভার দেশের সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিরোধী শিবিরের মত।
তবে এসব সমালোচনার বিপরীতে রিপাবলিকানরা তাঁদের বরাদ্দের সপক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের মতে, ইরানের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনা সামাল দেওয়া, আধুনিক প্রযুক্তির নতুন অস্ত্র সম্ভারের বিকাশ, সশস্ত্র বাহিনীর সরঞ্জাম আধুনিকীকরণ এবং সামরিক সদস্যদের কল্যাণে এই অর্থ অতীব জরুরি। প্রস্তাবিত বাজেটে সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের বেতন সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সেনা ব্যারাক সংস্কার ও সেনাসদস্যদের পরিবারের জন্য উন্নত আবাসন নির্মাণের বিশেষ পরিকল্পনা যুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিলটির অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রস্তাবনা নিয়েও রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিলটিতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে বিপুলসংখ্যক নিরীহ নাগরিকের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই তেল আবিবের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সামরিক সমর্থন ও সহায়তায় লাগাম টানার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে বিলে ইসরাইল-সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। (তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া)