ফিলিস্তিনি বন্দিদের রুখতে কারাগারের চারপাশে কুমিরের পরিখা কাটছে ইসরায়েল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের রামাত নেগেভ এলাকায় অবস্থিত কেতজিওত কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনের হামাস সদস্যদের পালানো রুখতে অভিনব ও বিতর্কিত উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারাফাটকের বিশেষ উইংয়ের চারপাশ ঘিরে কুমির ছেড়ে রাখার জন্য পরিখা বা খাল খননের কাজ শুরু করেছে দেশটির প্রশাসন।

 

নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলের সর্ববৃহৎ বন্দিশালা ‘কেতজিওত’ কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারে চরম ও বিতর্কিত কৌশল অবলম্বন করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেতজিওত কারাগারের ভেতরের বিশেষ একটি গোপন উইংয়ে ১৭০ মিটার দীর্ঘ পরিখা খননের কাজ পুরোদমে চলছে, যা বাইরের লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখা হয়েছে। মূলত ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের হিংস্র কুমিরকে গৃহপালিত বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন নিয়ম বা শ্রেণিভুক্ত করার পরই এই বিতর্কিত পরিকল্পনার পথ উন্মুক্ত হয়।

উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। যারা বিষয়টিকে সরকারের একটি ‘সস্তা স্টান্ট’ বা স্রেফ নাটক মনে করেছিলেন, তাঁদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পরিখা খনন ও কুমিরের সার্বিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে ইসরায়েলি কোষাগার থেকে ২১ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিশেষ বাজেট পাস করা হয়েছে এবং কারারক্ষীদের কুমির সামলানোর ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলের নিজস্ব বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংস্থাও চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জরুরি আইনি পর্যালোচনা সভা ডেকেছেন।

উল্লেখ্য, কেতজিওত হচ্ছে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্দিশালা, যেখানে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে ধরে আনা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কারাবন্দী বিষয়ক বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বন্দিশালাগুলোতে ফিলিস্তিনি আটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৯ হাজার ৬০০ অতিক্রম করেছে। একই সাথে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া, শীতকালে কম্বল কেড়ে নেওয়া এবং খালি লোহার পাতে ঘুমাতে বাধ্য করার মতো ধারাবাহিক অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়মিত উঠে আসছে।

(তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর)

তাসনিম হোসেন