নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে একদিনে ৪ হাজারের বেশি ইসরায়েলির প্রবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে একদিনে ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর সদস্য প্রবেশ করেছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইহুদিদের ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশের অন্যতম ঘটনা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। পরে তাঁর সঙ্গে হাজারো ইসরায়েলিও সেখানে প্রবেশ করেন।

জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। সূর্যাস্তের আগে এ সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসার প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থীকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জেরুজালেম গভর্নরেটের ভাষ্য, মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর কয়েকজন ইসরায়েলি ধর্মীয় আচার পালন, প্রার্থনা এবং গান গেয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এটি ১৯৬৭ সালে নির্ধারিত বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিপন্থী। ওই ব্যবস্থায় অমুসলিমদের আল-আকসা পরিদর্শনের অনুমতি থাকলেও সেখানে ধর্মীয় উপাসনা করার অনুমতি নেই।

এদিকে আল-আকসা সফরকালে ইতামার বেন-গভিরের বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রশাসন। তাদের অভিযোগ, পবিত্র স্থানটির বিদ্যমান অবস্থান পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় ইসরায়েল সরকার সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস ও জর্ডান। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে পবিত্র স্থানটির মর্যাদার লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

তাসনিম হোসেন