এবার ইয়েমেনে নিজেদের কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছে সামরিক উপদেষ্টা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন–সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান এবং হুথি নেতৃত্ব।

ইরানের দুটি সূত্র, ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে মাহান এয়ারের একটি বিমানে ১০ থেকে ২১ জন ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠানো হয়।

জানা যায়, সানা বিমানবন্দরে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হামলার কারণে বিমানটি নির্ধারিত গন্তব্য পরিবর্তন করে হুদায়দাহ বন্দরে অবতরণ করে। সেখানে হুথি যোদ্ধাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বর্ণও পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তারা পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যেই হুথিরা লোহিত সাগরের তেল পরিবহনপথে বাধা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়, যা রিয়াদ ও হুথিদের মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ফেলে।

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুজাহেম আলসালুমের দাবি, পাঠানো চালানে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছিল। তাদের মতে, এসব সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালির নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

তবে হুথি প্রচার কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই বিমানে কোনো সামরিক কর্মকর্তা বা অস্ত্র ছিল না; কেবল সাধারণ যাত্রীরা ভ্রমণ করেছিলেন।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, বিমানটি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশ নেওয়া হুথি প্রতিনিধিদল এবং চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা ইয়েমেনি নাগরিকদের বহনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তাসনিম হোসেন