ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে তিন লাখের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও দমকা বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানলের কারণে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে আরও ৫৫ হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। আগুন বোর্দো শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় ধোঁয়ার ঘন স্তর সৃষ্টি হয়েছে।
দমকল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাবানল এতটাই তীব্র যে এটি নিজেই ঘূর্ণিবাতাসের মতো বায়ুপ্রবাহ তৈরি করছে। এতে আগুনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে অগ্নিনিরোধক ফাঁকা এলাকা তৈরিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার।
অন্যদিকে স্পেনের মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চলে দাবানলের কারণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে টলেডোর কাছের অন্তত আটটি পৌর এলাকাও খালি করার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে দাবানলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের কোঠার ওই ব্যক্তির মরদেহ তার গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। চলতি বছর দেশটিতে ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের বার্ষিক গড়ের চেয়েও বেশি।
এদিকে ইতালির সিসিলি দ্বীপে ৩৫০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১০টি বড় আকারের। স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস জাতীয় উদ্যানে টানা ১০ দিন ধরে আগুন জ্বলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা কমিশনার হাদজা লাহবিব জানিয়েছেন, চলতি বছর ইউরোপে দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফ্রান্স ও স্পেনকে সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন অগ্নিনির্বাপণ বিমান, হেলিকপ্টার এবং বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।