বৈশ্বিক অঙ্গনে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম এক বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার (২৬ জুলাই) তার মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মান কি বাত’-এ এ কথা বলেন তিনি।
রোববার সম্প্রচারিত ‘মান কি বাত’ রেডিও অনুষ্ঠানে সমসাময়িক নানা অর্জনের পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি ১৯৯৯ সালের ঐতিহাসিক কার্গিল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর সেনাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মোদি বলেন, তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শত্রুপক্ষের নানামুখী কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনারা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আজও গোটা দেশকে গর্বিত করে। কার্গিল বিজয় দিবস আমাদের সেনাদের সেই অসীম বীরত্বের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
ভাষণের একপর্যায়ে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মোদি জানান, বিশ্ব দরবারে ভারত আজ একটি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে। এর পাশাপাশি দেশটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রতিনিয়ত আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলছে।
নিজের দাবির পক্ষে বেশ কিছু সাম্প্রতিক সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে নরেন্দ্র মোদি জানান, চলতি জুলাই মাসের শুরুর দিকে তিনি ইন্দোনেশিয়া সফর করেন। সে সময় ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বমানের ব্রহ্মোসসহ অন্যান্য অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এছাড়াও চলতি মাসেই ভারত দূরপাল্লার গাইডেড রকেটের অত্যন্ত সফল একটি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে জানান তিনি। এই অর্জনের পেছনে দেশের মেধাবী বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের নিরলস পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি আরও জানান, এই সফলতার ধারাবাহিকতায় মাত্র দুই থেকে তিন দিন আগে ভারত সর্বাধুনিক ‘কুশা’ ক্ষেপণাস্ত্রেরও সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহেই মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে ভারত এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ সময় তিনি মহাকাশে পাঠানো ভারতের প্রথম বেসরকারি মহাকাশযান ‘বিক্রম-১’-এর ঐতিহাসিক সফলতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।