যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের তীব্র হামলা, নিহত দুইশ' সেনা: দাবি আইআরজিসির

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান তীব্র উত্তেজনার জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পূর্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি বাতিল ঘোষণা করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা লাভ করে। এই মার্কিন আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে সম্প্রতি ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে ১৫ দিনব্যাপী একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার (২৫ জুলাই) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর হামলা চালাতে যে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হচ্ছিল, মূলত সেগুলোকে টার্গেট করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির জোরালো দাবি অনুযায়ী, এই অতর্কিত হামলায় অন্তত ৮টি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ঘাঁটিরই প্রায় ২০টি হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হওয়া সামরিক সম্পদের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ৪টি ভারী সামরিক হেলিকপ্টার, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার সামরিক পরিবহন বিমান। এছাড়াও ১৭টি নজরদারি ড্রোন ও ৮টি জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমানও এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়।

বিমান বা আকাশপথের সরঞ্জামের পাশাপাশি মার্কিন রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় ৭টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রাডার, ৫টি দূরপাল্লার রাডার স্থাপনা, ৫টি এফপিএস ও এফপিএস-১৭ রাডার, ৩টি আকাশ ও সামুদ্রিক নজরদারি রাডার এবং ৩টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত স্থাপনা যেমন— ৬টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হ্যাঙ্গার, ৫টি যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার, ৪টি সুরক্ষিত বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, ৪টি হিমার্স রকেট লঞ্চার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসেসিং সেন্টার ও অ্যামাজন ডেটা নোডের মতো আধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মার্কিন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতাহতের সংখ্যাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ‘অপারেশন নাসর-২’ চলাকালীন এই হামলায় দুই শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু সেনা সদস্য। ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র ধামাচাপা না দিয়ে তা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করতে মার্কিন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, নিরপেক্ষভাবে সমস্ত ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সরজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। তবে এখন পর্যন্ত আইআরজিসির এই বড় ধরনের দাবি বা সেনা হতাহতের বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাসনিম হোসেন