দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবেন না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক লরা কুয়েন্সবার্গের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
আগামীকাল সোমবার সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচারিত হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই তার কিছু অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে তার প্রাথমিক যোগাযোগ বেশ ইতিবাচক হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি তাকে বেশ উষ্ণ মনের মানুষ হিসেবে পেয়েছেন। তবে ট্রাম্পকে তিনি অন্ধভাবে বা পুরোপুরি বিশ্বাস করেন কি না—সাংবাদিকের এই প্রশ্নটি দুবার করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো হ্যাঁ বা না সূচক উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এর পরিবর্তে তিনি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তনশীলতার কথা তুলে ধরে বলেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে সময় ও বাস্তবতার সাপেক্ষেই কেবল সঠিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব।
সাক্ষাৎকারে বার্নহাম অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, মার্কিন প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ বা নীতি যদি ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে না যায়, তবে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন এবং ব্রিটিশ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রকাশ্যেই ভিন্ন মত প্রকাশ করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের সাথে সবসময় নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখাই তার রাজনীতির মূল শক্তি এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি এই ধারা অব্যাহত রাখবেন। বিশেষ করে, সম্প্রতি ইরানের সাথে নতুন করে সংঘাত শুরুর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তার নিজের মধ্যেও যথেষ্ট উদ্বেগ কাজ করেছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। দেশের স্বার্থই যে তার কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে এই সর্বোচ্চ পদের মূল এবং প্রধান দায়িত্বই হলো যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করা।
এদিকে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট ও বরাদ্দ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও আলোচনা চললেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় পরিষ্কার করেছেন। জিডিপির ৩ শতাংশ অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা তারিখ ঘোষণা করতে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে তার চ্যান্সেলর জন হিলি সতর্ক করে দিয়েছিলে যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা না হলে দেশ মারাত্মক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়বে এবং এই ইস্যুতে তিনি পূর্ববর্তী সরকার থেকে পদত্যাগও করেছিলেন। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের মতে, তিনি এমন একজন দক্ষ চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছেন যিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষার আর্থিক গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তাদের বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো চলতি বছরের শেষভাগে বাজেট উপস্থাপনের আগেই প্রতিরক্ষা খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলোর সঠিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের সঠিক পথ তারা খুঁজে বের করবেন বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন অ্যান্ডি বার্নহাম।