রংপুরের হারাগাছ থানার ধুমেরকুঠি জয়বাংলা বাজার এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে কর্মরত এক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মো. শাখেরুল ইসলাম (৫৫) অভিযোগ করেন, জমি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ১৭ জুলাই তার ছোট ভাই নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং তার জমিতে থাকা একটি টিনের ঘর ভাঙচুর করা হয়। এতে তার প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, হামলার পেছনে বড় ভাই শাহেদুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান, ভাতিজা সোহাগ মিয়া এবং নাগেশ্বরীর এসিল্যান্ড মো. বদরুজ্জামান (রিশাদ)-এর ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভাতিজা ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, “আপনাকে এই গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না।” প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে তিনি ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসিল্যান্ড মো. বদরুজ্জামান (রিশাদ)। তিনি বলেন, পরিবারের প্রধান জীবিত থাকাকালেই সাত ছেলের মধ্যে মৌখিকভাবে জমি ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, শাখেরুল ইসলাম নির্ধারিত প্লটের বাইরে জমি দখলের চেষ্টা করছিলেন, যা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। হামলা, সন্ত্রাসী নিয়ে যাওয়া কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন।
হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধের সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরে আদালতের মাধ্যমে বণ্টননামার মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত বিরোধে কখনো পদমর্যাদা ব্যবহার করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ হওয়ায় আদালতের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে ওই পরিবারের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।