ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি দেশটির বিচার বিভাগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথিত আগ্রাসী যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের অধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে।
রোববার বিচার বিভাগ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় খামেনি বলেন, গত বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানি জনগণের যে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা শত শত থেকে হাজার হাজার আইনি মামলার ভিত্তি হতে পারে। তিনি শিশু হত্যা, হাসপাতাল ও জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং এসব বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি শক্তির কারণে সৃষ্ট ক্ষতির বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা ইরানের বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও ইরান এবং লেবাননে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সামরিক পদক্ষেপ আরও কঠোর হতে পারে এবং ইরানের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বাহরাইন ও কুয়েত জানিয়েছে, তারা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কাতার এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই জলপথে স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে একতরফা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও কূটনৈতিক অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।