পরীক্ষায় নকলের বিল সংসদে, শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার তথ্যভান্ডারে অবৈধ প্রবেশ, পরীক্ষাকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক যন্ত্র বহন এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সংসদীয় কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিদ্যমান আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারা আর সময়োপযোগী নয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও অনলাইন মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধগুলোকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সুষ্ঠু ও অনিয়মমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে ‘ডিজিটাল কারসাজি’ শব্দটির সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার তথ্যভান্ডারে অবৈধ প্রবেশ এবং যেকোনো ধরনের ডিজিটাল কারসাজিকেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা জালিয়াতি কিংবা এ ধরনের অপরাধে জড়িত চক্র গঠন বা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকারের মতে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় এ সংশোধনী আইন প্রণয়ন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

তাসনিম হোসেন