ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে কুষ্টিয়ায় জাপান ফুটবল দলের সমর্থকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে দলটির ঐতিহাসিক নকআউট ম্যাচকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরে এক বর্ণাঢ্য ও জমকালো শোভাযাত্রার আয়োজন করেছেন স্থানীয় জাপানি সমর্থকেরা।
চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের পছন্দের দলকে ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে কুষ্টিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা মেতে উঠেছেন নানা উৎসবে। শহরের বিভিন্ন বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দায় শোভা পাচ্ছে জাপানের জাতীয় পতাকা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে সমর্থকদের উদ্যোগে কুষ্টিয়া শহরে এক বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের কোর্টপাড়াস্থ গোশালা মোড় থেকে শুরু হয়ে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সমর্থকদের গায়ে ছিল জাপানি ফুটবল দলের ঐতিহ্যবাহী ব্লু বা নীল জার্সি। শত শত সমর্থক ব্যানার, ফেস্টুন, রিকশা ও ট্রাক নিয়ে উল্লাস করতে করতে শহরজুড়ে র্যালি করেন। কুষ্টিয়া শহরের এই পুরো উৎসবমুখর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করছেন শহরের সুপরিচিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এস এম মুস্তানজিদ।

জাপান দলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে ডা. এস এম মুস্তানজিদ বলেন, "আমি জাপান ফুটবল দলের একজন দারুণ ভক্ত ও একনিষ্ঠ সমর্থক। ঐতিহাসিকভাবে জাপান আমাদের বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অবদান অপরিসীম। যদিও মাঠের খেলার সঙ্গে এই বিষয়ের সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবুও জাপান দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি এই দলটির একনিষ্ঠ সমর্থন করি।"
আয়োজকেরা আরও জানিয়েছেন, কেবল সকালের শোভাযাত্রাই নয়, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিল বনাম জাপানের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ও ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচটি দলবদ্ধভাবে দেখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করতে শহরের নির্দিষ্ট স্থানে বসানো হচ্ছে প্রজেক্টর। নকআউট পর্বের এই কঠিন বৈতরণী পার হয়ে সামুরাই ব্লু-রা (জাপান দল) বিশ্বকাপে তাদের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা কুষ্টিয়ার শত শত জাপান ভক্তদের।