রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর চলা ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুদ্ধক্ষেত্র। এই সংঘর্ষে ইউক্রেনের বিমানঘাঁটি ধ্বংসের দাবির পাশাপাশি রাশিয়ার শিল্প কমপ্লেক্স ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা দক্ষিণ ইউক্রেনের মিকোলাইভ এলাকার একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে রাতভর শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দুটি ‘মিগ-২৯’ (MiG-29) যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কো এই হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান দুটির মধ্যে একটি রানওয়ের পাশে পার্ক করা অবস্থায় এবং অপরটি বাঙ্কারের ভেতরে জ্বালানি নেওয়ার সময় নিখুঁতভাবে আঘাতের শিকার হয়।
এদিকে একই রাতে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ছোঁড়া গোলার আঘাতে অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পাল্টা আঘাত হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা নিজেদের তৈরি দূরপাল্লার 'ফ্লেমিঙ্গো' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত বিখ্যাত 'টাইটান বারিকাদি' শিল্প কমপ্লেক্সে সফল হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই শিল্প স্থাপনাটিতে ভারী কামান ব্যবস্থা ও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হতো।
এর পাশাপাশি ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও একঝাঁক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের সামরিক কমান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই তাদের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে কৌশলগতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, "দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।" রুশ ভূখণ্ড ও জাতীয় অবকাঠামোর ওপর আসা যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ বা হুমকি রাশিয়া সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন