মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে প্রণীত নতুন আইন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের প্রযুক্তিনির্ভর অপতৎপরতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধীদের পরিবর্তিত কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে প্রণীত নতুন আইন অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় এই আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্রের কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। পাশাপাশি তদন্ত, বিচার, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আইনগত ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে নতুন আইনের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা এবং প্রধান বিধান নিয়ে উপস্থাপনা করা হয়। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উপায় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।